খোয়াই

জিলা পরিষদ কার্য্যালয় প্রাঙ্গণে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হল খোয়াই জেলাভিত্তিক মৎস মেলা। মৎস্যচাষের প্রসার, আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে চাষিদের অবহিত করা এবং মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করাই ছিল এই মেলার মূল উদ্দেশ্য।
এদিকে জনগণের মতে, মৎস ট্রেনিং সেন্টার এবং মৎস মেলা পর্যন্তই উৎসাহ সীমাবদ্ধ হয়ে থাকছে। বাস্তব অনেকটাই অন্যরকম। খোয়াই জেলা বা গোটা ত্রিপুরা রাজ্যের মৎস বাজারগুলোতে মাছের দর চড়া। খোয়াইতে পরিস্থিতি আরও জটিল। কতিপয় মৎস কর্পোরেটর গোটা বিষয়টিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
এছাড়া বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আজ সব অংশের মানুষের মধ্যেই মাছ একটি অন্যতম খাবার হয়ে উঠেছে। কিন্তু শুখা মরশুমে যখন পুকুর বা জলাশয়গুলো শুকিয়ে যায়, তখন কিভাবে এগুলোকে সজীব রাখা যায় তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে মৎস দপ্তরের আধিকারিকদের কাছে উদ্যোগ গ্রহন করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
মেলার উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা বিধানসভা দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণী সাহা রায়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার বিধায়ক এবং ত্রিপুরা এসসি কর্পোরেশন কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান পিনাকি দাস চৌধুরী। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিধানসভার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, খোয়াই জেলা শাসক রজত পন্থ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জিলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সত্যেন্দ্র চন্দ্র দাস, খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারম্যান দেবাশিস নাথ শর্মা, খোয়াই জিলা পরিষদের ওয়ার্ক স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অনুকূল দাস এবং সমাজকর্মী সমীর কুমার দাস।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খোয়াই জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা সিংহ রায় (দত্ত)। জেলাভিত্তিক মৎস মেলার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিজয় কান্তি ঘোষ, যিনি খোয়াই জেলার মৎস্য দপ্তরের উপ-পরিচালক হিসেবেও কর্মরত।
মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মৎস্যচাষিরা অংশগ্রহণ করেন। আধুনিক মৎস্যচাষ পদ্ধতি, উন্নত মানের পোনা উৎপাদন, মাছ সংরক্ষণ ও বিপণন সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজকদের মতে, এই ধরনের মেলা মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
